Monday, May 19, 2025

রাতের বৃষ্টি ভীষণ ভয়ানক, যদি তা ঝরে সারারাত্তির


আমরা কি তিমিরবিলাসী?/আমরা তো তিমিরবিনাসী জীবনানন্দের এই লাইনদুটি নিয়েই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হলাম, কলকাতা এস টি সি -এস নতুন প্রযোজনা সারারাত্তির দেখে। বাদল সরকারের জন্মদিন উদযাপন হেতু রাজেশ দেবনাথের নির্দেশনায় এই নাট্যের প্রথমেই যা আকর্ষণ করে তা হল এর দর্শক আসন। ওঁনাকে মাথায় রেখেই অন্তরঙ্গ প্রেক্ষাগৃহের চারিদিক ঘিরে দর্শক আর মধ্যেখানে সারারাত্তির। একটা চাপা অথচ ছেঁড়া ছেঁড়া অন্ধকার দিয়ে নাটকটি শুরু হয়, সৌভিক মোদকের আলো তাতে খানিকটা রহস্যের আবেগ বুনতে সাহায্য করে। নাটক যত বাড়তে থাকে একবিংশ শতাব্দীর সম্পর্কের অস্তিত্বসংকট ততই প্রগাঢ় হতে থাকে নবমিতা ঘোষ, তমান মুখার্জী অদ্রীশ কুমার রায়ের অভিনয়ে। আদ্রীশবাবুর চরিত্রের গভীর কাব্যময় ধোঁয়াশা তার সংলাপের তুলনায় আলো দিয়েই বেশী ফুটিয়ে তুলেছেন রাজেশ দেবনাথ।

বাদল সরকারের এই নাটকে দার্শনিকতার ব্যবহার বেশী কিন্ত নবমিতার প্রতিটা সংলাপ তার বিপন্নতা আমাকে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের, “ কিন্তু তুমি নেই বাহিরে, অন্তরে মেঘ করে ভারি ব্যাপক বৃষ্টি আমার বুকের মধ্যে ঝরেমনে করায়। সে যেন বারংবার তার স্বামীকে অস্ফুটে বোঝাতে চাই, “বৃষ্টি পড়ে এখানে বারোমাস আদ্রীশবাবু তার টের পেয়ে খানিকটা উত্তর দিয়ে যেতে থাকেন সারা নাট্য জুড়ে, “দুয়ার এঁটে ঘুমিয়ে আছে পাড়া এখানে পাড়া আর পাড়া থাকে না সমস্ত অবুঝ এবং আত্ম শ্লাঘায় ভরপুর স্বামীদের যেন ঠেস দেয়। নবমিতার ভেতরের জমাট অন্ধকার যত ঘনিয়ে ওঠে তত এই নাট্যে পারমিতা ঘোষের আবহের নিপুন প্রয়োগ দেখা যায় সারারাত্তির শব্দের প্রতিধ্বনি ঘটিয়ে।

আমরা চমকে উঠি, এ যেন সরাসরি আমাদের ভেতরের অন্ধকারকে ধাক্কা দিয়ে বলে যায়, ভাঙো। নাটকের ক্লাইমাক্স এ আমারা বুঝতে পারি প্রত্যেক নারী সারাজীবন হাতড়ে চলে আনন্দ, কিন্তু দাম্পত্যে শান্তি আর আনন্দ একসাথে বসবাস করতে পারে না।


তমাল বাবু নিজের অবস্থানে থেকে বাচিকের সরু সুতোর উপর চরিত্রের মন ও বিপন্নতার ভারসাম্য বজায় রেখে গেছেন। সারা নাট্যময় নবমিতার চরিত্র যেভাবে রঞ্জনকে খোঁজে তাতে আমরা বুঝতে পারি রঞ্জন একটা ভোর, যে সমস্ত অন্ধকার ছেনি হাতুড়ি দিয়ে কেটে কেটে বুকের ভেতর রোদের ভাস্কর্য ফুটিয়ে তুলবে। তাই ত নবমিতা রোজ রাতে বিনিদ্র থেকে জানলায় রঞ্জনের অপেক্ষা করে হয় ত। সে যখন একবার রঞ্জন বলে আকুতি জানায় গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। তবে নাটকের মঞ্চসজ্জা যেন আরো কিছুর দাবী জানাচ্ছিল। 

নাটকের মাঝে মাঝে এবং শেষে আবহে, শ্বাসের ওঠা নামা দিয়ে নির্দেশক যেন সারারাত্তির জুড়ে আমাদের ভেতরের অন্ধকারের অস্বস্তিকেই কিছুটা আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দেন। সব শেষে প্রবুদ্ধসুন্দর করের কবিতা “ এ শহরে পানশালা নেই তবুও রোজ বাড়ি ফেরে রাত্রির মাতাল এর মত করে বলতে ইচ্ছে করে এ শহরে হয় ত এখন বাদল সরকার নেই তবুও বাদলা করে আসে আর বৃষ্টি হয় সারারাত্তির, সারারাত্তির...

                                                                                                                                       
______________শুভব্রত আচার্য্য



1 comment:

তারাদের কথা কী শুধুই মহাভারতের ধারাভাষ্য নাকি একটি Solo performance !

Gender নাকি sex ? এই দুটি শব্দের ছোঁয়াছুঁয়ি মেটাতে গিয়ে জবা শর্মার নির্দেশিত নাটক ‘ তারাদের কথা ’ কোথাও হয়তো নিজেরই বাঁধ...