Thursday, May 22, 2025

থিয়েমেকার্সের নাটক : ভীম বধ

 

থিয়েমেকার্সের নাটক ভীম বধ পরবর্তী অভিনয় ১লা জুন ২০২৫, দমদম সবুজ প্র্যাকটিস স্টুডিওতে 'থিয়েটার স্কোপ ভলিউম ৩' নাট্যোৎসবের দ্বিতীয় দিন।

নাটক শুরু হয় নাট্য প্রস্তুতির এক বিশৃঙ্খল  পরিবেশে। পরিচালককালুদাএবং তার নাট্যদলের ছেলেরা কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ নিয়ে একটি নাটক মঞ্চস্থ করতে চাইছে। কিন্তু এই মহড়ার মঞ্চে প্রবেশ করেই শুরু হয় এক অদ্ভুত বিশৃঙ্খলা যুক্তিবিদ্যার ধাঁধা।

হারাধনঅ্যাবস্ট্রাক্ট জঙ্গল তৈরি করেছে, ‘নিমাইভীম হয়ে দাড়ি নিয়ে হাজির হয়েছে, ‘নিখিলশ্রীকৃষ্ণের হাতে শঙ্খ চক্রর বদলে বাঁশি সাইকেলের চাকা নিয়ে এসেছে, আর দুর্যোধনের চরিত্রে থাকাপান্নালালনিজেকে ভীমের হাতে পরাজিত হতে দিতে নারাজ। তারা সকলেই বাস্তবতা, কল্পনা, দর্শন, থিয়েটার যুক্তি নিয়ে নিজেদের মতো মত প্রকাশ করে, এবং পুরো নাটকজুড়ে থিয়েটারের ভিতরের দ্বন্দ্ব বিভ্রান্তির রূপক ছড়িয়ে পড়ে।


অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ভীম আর দুর্যোধন চরিত্রধারীরা সত্যি সত্যিই মারামারি জড়িয়ে পড়ে। দুর্যোধন চরিত্রে পান্নালাল সত্যিকারের গদা নিয়ে ভীম (নিমাই)-কে আঘাত করে, কৃষ্ণ চরিত্রধারীকেও আক্রমণ করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে নাটকের ভেতরের নাটকই যেন মঞ্চে বাস্তব হয়ে ওঠে।

শেষ দৃশ্যে, কালুদা বাকিরা পান্নালালকে (দুর্যোধন) ধরে ফেলে, এবং নাটকের বাইরে এসে শিল্পের ভণ্ডামি নিয়ে মুখোমুখি প্রশ্ন তোলে পান্নালাল, চিৎকার করে বলে—" থিয়েটারের নামে যে জালিয়াতি করছো, পারবে সেটা বলতেশেষ দৃশ্যে, কালুদা বাকিরা পান্নালালকে (দুর্যোধন) ধরে ফেলে, এবং নাটকের বাইরে এসে শিল্পের ভণ্ডামি নিয়ে মুখোমুখি প্রশ্ন তোলে পান্নালাল, চিৎকার করে বলে—" থিয়েটারের নামে যে জালিয়াতি করছো, পারবে সেটা বলতে? মানুষের জীবনের কথা বলতে পারবে থিয়েটার?” কালুদা হঠাৎ বলে ওঠেনহত্যা করো ভীম, সত্য বলছে ও।এবং এই আত্মবিরোধিতার মাধ্যমে নাটক শেষ হয়

নাটক: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

নির্দেশনা, আলো, আবহ, মঞ্চ সম্পাদনা : সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিনয় - অনিরুদ্ধ বিশ্বাস, মুশফিক আকন্দ, দেবদাস চক্রবর্তী , সৌম্য কর্মকার, আশীষ ঢোলাকিয়া

আবহ প্রক্ষেপন: সৌমিক নন্দী , আলোক প্রক্ষেপন: সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রযোজনা নিয়ন্ত্রণ : অপূর্ব


Monday, May 19, 2025

রাতের বৃষ্টি ভীষণ ভয়ানক, যদি তা ঝরে সারারাত্তির


আমরা কি তিমিরবিলাসী?/আমরা তো তিমিরবিনাসী জীবনানন্দের এই লাইনদুটি নিয়েই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হলাম, কলকাতা এস টি সি -এস নতুন প্রযোজনা সারারাত্তির দেখে। বাদল সরকারের জন্মদিন উদযাপন হেতু রাজেশ দেবনাথের নির্দেশনায় এই নাট্যের প্রথমেই যা আকর্ষণ করে তা হল এর দর্শক আসন। ওঁনাকে মাথায় রেখেই অন্তরঙ্গ প্রেক্ষাগৃহের চারিদিক ঘিরে দর্শক আর মধ্যেখানে সারারাত্তির। একটা চাপা অথচ ছেঁড়া ছেঁড়া অন্ধকার দিয়ে নাটকটি শুরু হয়, সৌভিক মোদকের আলো তাতে খানিকটা রহস্যের আবেগ বুনতে সাহায্য করে। নাটক যত বাড়তে থাকে একবিংশ শতাব্দীর সম্পর্কের অস্তিত্বসংকট ততই প্রগাঢ় হতে থাকে নবমিতা ঘোষ, তমান মুখার্জী অদ্রীশ কুমার রায়ের অভিনয়ে। আদ্রীশবাবুর চরিত্রের গভীর কাব্যময় ধোঁয়াশা তার সংলাপের তুলনায় আলো দিয়েই বেশী ফুটিয়ে তুলেছেন রাজেশ দেবনাথ।

বাদল সরকারের এই নাটকে দার্শনিকতার ব্যবহার বেশী কিন্ত নবমিতার প্রতিটা সংলাপ তার বিপন্নতা আমাকে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের, “ কিন্তু তুমি নেই বাহিরে, অন্তরে মেঘ করে ভারি ব্যাপক বৃষ্টি আমার বুকের মধ্যে ঝরেমনে করায়। সে যেন বারংবার তার স্বামীকে অস্ফুটে বোঝাতে চাই, “বৃষ্টি পড়ে এখানে বারোমাস আদ্রীশবাবু তার টের পেয়ে খানিকটা উত্তর দিয়ে যেতে থাকেন সারা নাট্য জুড়ে, “দুয়ার এঁটে ঘুমিয়ে আছে পাড়া এখানে পাড়া আর পাড়া থাকে না সমস্ত অবুঝ এবং আত্ম শ্লাঘায় ভরপুর স্বামীদের যেন ঠেস দেয়। নবমিতার ভেতরের জমাট অন্ধকার যত ঘনিয়ে ওঠে তত এই নাট্যে পারমিতা ঘোষের আবহের নিপুন প্রয়োগ দেখা যায় সারারাত্তির শব্দের প্রতিধ্বনি ঘটিয়ে।

আমরা চমকে উঠি, এ যেন সরাসরি আমাদের ভেতরের অন্ধকারকে ধাক্কা দিয়ে বলে যায়, ভাঙো। নাটকের ক্লাইমাক্স এ আমারা বুঝতে পারি প্রত্যেক নারী সারাজীবন হাতড়ে চলে আনন্দ, কিন্তু দাম্পত্যে শান্তি আর আনন্দ একসাথে বসবাস করতে পারে না।


তমাল বাবু নিজের অবস্থানে থেকে বাচিকের সরু সুতোর উপর চরিত্রের মন ও বিপন্নতার ভারসাম্য বজায় রেখে গেছেন। সারা নাট্যময় নবমিতার চরিত্র যেভাবে রঞ্জনকে খোঁজে তাতে আমরা বুঝতে পারি রঞ্জন একটা ভোর, যে সমস্ত অন্ধকার ছেনি হাতুড়ি দিয়ে কেটে কেটে বুকের ভেতর রোদের ভাস্কর্য ফুটিয়ে তুলবে। তাই ত নবমিতা রোজ রাতে বিনিদ্র থেকে জানলায় রঞ্জনের অপেক্ষা করে হয় ত। সে যখন একবার রঞ্জন বলে আকুতি জানায় গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। তবে নাটকের মঞ্চসজ্জা যেন আরো কিছুর দাবী জানাচ্ছিল। 

নাটকের মাঝে মাঝে এবং শেষে আবহে, শ্বাসের ওঠা নামা দিয়ে নির্দেশক যেন সারারাত্তির জুড়ে আমাদের ভেতরের অন্ধকারের অস্বস্তিকেই কিছুটা আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দেন। সব শেষে প্রবুদ্ধসুন্দর করের কবিতা “ এ শহরে পানশালা নেই তবুও রোজ বাড়ি ফেরে রাত্রির মাতাল এর মত করে বলতে ইচ্ছে করে এ শহরে হয় ত এখন বাদল সরকার নেই তবুও বাদলা করে আসে আর বৃষ্টি হয় সারারাত্তির, সারারাত্তির...

                                                                                                                                       
______________শুভব্রত আচার্য্য



Monday, May 12, 2025

থিয়েটারস্কোপ ভলিউম ৩

সবুজ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আগামী ৩১শে মে থেকে আয়োজন করতে চলেছে থিয়েটারস্কোপ (তৃতীয় পর্যায়)। আগের দুটি পর্বে এই আয়োজন ছিল মুক্তাঙ্গন রঙ্গালয় এবং থিয়েএপেক্স দমদম। কিন্তু এই পর্বে এই আয়োজন হতে চলেছে অন্তরঙ্গ পরিসরে দমদমে তাদের নিজস্ব নাট্যগৃহ সবুজ প্র্যাকটিস স্টুডিওতে। আগামী চার মাসের শেষ শনি ও রবিবারে প্রতিদিন দুটি করে প্রযোজনা উপস্থাপিত হবে। উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বিশিষ্ট নাট্য গবেষক শ্রী আশিস গোস্বামী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নাট্য নির্দেশক শ্রী শুভজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর শ্রী পল্লব পাল। সবুজ সংস্কৃতি কেন্দ্র ছাড়াও এই উৎসবে অংশগ্রহণ করছে ইফটা ,ক্যানডিড থিয়েটার ,নট এ স্টোরি টেলার, টেন্থ প্লানেট, ইচ্ছেডানা, খড়দা থিয়েমেকার্স, রিষঢ়া দূরায়ন, বোস ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস, নবরূপ ও কলকাতা এস টি সি। থাকছে ভিন্ন স্বাদের ষোলটি পরীক্ষামূলক নাট্য প্রযোজনা। সবুজের এই আয়োজন বৃহত্তর কোলকাতার নাট্যচর্চায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে নিঃসন্দেহে।

৩১ মে সন্ধ্যা ৬টায় শুভ উদ্বোধন হবে এই বিশাল নাট্যোৎসবের দমদম সবুজ প্র্যাকটিস স্টুডিও তে।




তারাদের কথা কী শুধুই মহাভারতের ধারাভাষ্য নাকি একটি Solo performance !

Gender নাকি sex ? এই দুটি শব্দের ছোঁয়াছুঁয়ি মেটাতে গিয়ে জবা শর্মার নির্দেশিত নাটক ‘ তারাদের কথা ’ কোথাও হয়তো নিজেরই বাঁধ...